APT (Asia-Pacific Telecommunity) বিষয়ে জানুন (পর্ব-১)

APT-Asia-Pacific-Telecommunity

“APT” নামটি হয়তো অনেকের কাছেই পরিচিত নয়। কিন্তু আপনি যদি টেলিকম, মোবাইল নেটওয়ার্ক, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি, 5G কিংবা ভবিষ্যতের 6G নিয়ে কাজ করেন, তাহলে এই নামটির সঙ্গে আপনার পরিচিত হওয়া খুবই স্বাভাবিক।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের টেলিকম ও ICT সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যখন একসঙ্গে বসে প্রযুক্তি, নীতি, spectrum এবং ভবিষ্যতের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করে, তখন সেখানে APT-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।

কিন্তু APT আসলে কী? কেন এটি তৈরি হয়েছিল? কতটি দেশ এর সদস্য? এর সদর দপ্তর কোথায়? বাংলাদেশের সঙ্গে এর সম্পর্ক কী? আর টেলিকমের জন্যই বা APT এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

চলুন, সহজভাবে জেনে নেওয়া যাক।

APT কী?

APT-এর পূর্ণরূপ Asia-Pacific Telecommunity।

এটি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের telecommunications এবং ICT উন্নয়নের জন্য কাজ করা একটি আন্তঃসরকারি সংস্থা (Intergovernmental Organization)।

সহজ ভাষায় বললে, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশকে এক জায়গায় এনে টেলিকম ও ICT-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করাই APT-এর অন্যতম প্রধান কাজ।

APT-এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো বিভিন্ন policy, regulation, technology, spectrum এবং capacity building বিষয় নিয়ে একসঙ্গে কাজ করে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফোরামেও এই অঞ্চলের দেশগুলোর অভিন্ন মতামত তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।

APT কীভাবে তৈরি হলো?

APT-এর গল্প শুরু হয় প্রায় পাঁচ দশক আগে।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল তখন দ্রুত উন্নত হচ্ছিল। টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজনও বাড়ছিল।

এই প্রয়োজন থেকেই United Nations Economic and Social Commission for Asia and the Pacific (UNESCAP) এবং International Telecommunication Union (ITU)-এর যৌথ উদ্যোগে APT প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

APT-এর Constitution গ্রহণ করা হয় ২৭ মার্চ ১৯৭৬ সালে। পরে Constitution কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ সালে APT আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

অর্থাৎ, APT-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল এমন একটি সময়ে, যখন এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলো বুঝতে শুরু করেছিল যে টেলিকম উন্নয়নের জন্য একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

আজ প্রায় পাঁচ দশক পর সেই সহযোগিতা আরও অনেক বড় পরিসরে পৌঁছেছে।

APT-এর সদর দপ্তর কোথায়?

APT-এর Headquarters বা সদর দপ্তর থাইল্যান্ডের Bangkok-এ অবস্থিত।

APT-এর Constitution অনুযায়ী, Telecommunity-এর headquarters Bangkok-এ থাকবে, যদি না General Assembly অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেয়।

বর্তমান APT Secretariat-এর ঠিকানাও Bangkok, Thailand-এ।

তাই APT-এর কোনো meeting বা event-এর কথা শুনলে Bangkok নামটি প্রায়ই সামনে আসে।

APT-এর সদস্য কতটি?

বর্তমানে APT-এর রয়েছে:

  • 38টি Member Administration
  • 4টি Associate Member
  • 140টি Affiliate Member

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার।

38টি Member Administration মূলত APT-এর সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে। আর Affiliate Member-এর মধ্যে বিভিন্ন private company, academic institution এবং ICT সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

অর্থাৎ, APT শুধু বিভিন্ন দেশের সরকার বা regulatory authority-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ICT sector-এর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদেরও এর কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

APT শুধু সরকারের জন্য?

পুরোপুরি নয়।

APT-এর Member ও Associate Member-এর পাশাপাশি Affiliate Member হওয়ার সুযোগও রয়েছে।

Affiliate Membership-এর আওতায় telecom/ICT sector-এর বিভিন্ন enterprise, agency, institute, organization, association এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারে।

এ কারণে APT-এর কার্যক্রমে government, regulator, industry এবং academia—বিভিন্ন পক্ষের অংশগ্রহণ দেখা যায়।

এটি একটি বড় সুবিধা।

কারণ নতুন কোনো technology নিয়ে কাজ করার সময় শুধু regulator-এর মতামত যথেষ্ট নয়। Industry কী চায়, researcher কী নিয়ে কাজ করছে এবং technology বাস্তবে কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে—এসব বিষয়ও জানা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও APT

বাংলাদেশও APT-এর কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ Member Administration।

বাংলাদেশের টেলিকম ও ICT সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান APT-এর বিভিন্ন meeting, working group, training programme এবং technical activities-এ অংশগ্রহণ করে।

এর ফলে বাংলাদেশের জন্য এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা জানার সুযোগ তৈরি হয়।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের নিজেদের অভিজ্ঞতা, মতামত ও প্রয়োজনীয়তাও আঞ্চলিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া যায়।

এটি বিশেষ করে spectrum management, mobile communication, satellite, IoT এবং emerging wireless technologies-এর মতো বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Reference

https://apt.int

Leave a Comment

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডগুলো * চিহ্নিত।

Scroll to Top